সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

যা থামলেই শেষ (এ কারনে চলবে) ৭


হাসি নামক একটা আজব ভঙ্গি আমাদেরকে করতে হয় বা নিজেদের অনুভুতির ধাক্কায় ই আমরা করে থাকি এটা আসলেই হাসি কিনা এই নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দের যথেষ্ট অবকাশ আমার রয়েছে। এতো অবকাশ যে কোথায় পাই! মানুষের তো অবকাশেরই অবকাশ নেই। আবার হাসি নিয়ে গবেষনার সময় কোথায়? এই মেটেরিয়ালিষ্টিক লাইফের একজন সুযোগ্য ধারক হিসেবে আমরা জ্যামিতিক হারে যান্ত্রীক হয়ে যাচ্ছি। নিজেরা নিজেদেরকে মানুষ বলে দাবী করলেও রাতে ঘুমানোর আগে একলা শুয়ে শুয়ে মনটার লাগাম ছেড়ে দিলে ও একাই ভেবে যায় সে আসলে মানুষ কিনা। নাকি পুরোপুরি অমানুষ? নাকি মানুষ অমানুষের মাঝে অন্য কোনো কিছু? যদি মানুষ হই তাহলে ... অননুমোদিত পাশবিক কাজের কথা নাহয় বাদ ই দিলাম... অনুমোদিত পশু সংক্রান্ত কাজ গুলো কেনো করে যাই? কেনো অন্যান্য পশুর মতোই জৈবীক সন্তরনে অতিক্রান্ত করি মানবীক এই জীবনটাকে? তার মানে কি? আমি একটা অনুমোদিত পশু যে নিজেকে মানুষ বলে দাবী করলেও সেই দাবীর সত্যতায় নিজেই ভীত?

হেসে যাই কত সুন্দর করে। কিন্তু কতটুকু সত্য এই হাসি? মুখটাকে দু দিকে টেনে সাদা চমকানো দাতগুলো বেড় করে চোখের পাপড়ীগুলোকে একটু চেপে ধরলে মুখের যে অবস্থটা হয় তাকেই সাধারনত হাসি বলে আমরা মনে করি। কিন্তু হাসির যে একটা প্রশান্তি এটা অনুভব করাটা আজকাল বড়ই দূঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। যার ফলে মিষ্টার বিনের মতো একজন ভাঁড়ের হাসির নানান কসরত আর অঙ্গভঙ্গী দেখে আমাদেরকে হাসতে হয়। কেউ হাসে ভেতরে হাজার কান্নার পাহাড় জমা করে। আবার কেউ হাসে এমনিতেই। না বুঝে অনেকে হাসে। যাকে বোকার মত মনে হয়।

আমার হাসি নন ষ্টপ। চলতেই থাকে। সুখ পেলে হাসি দূঃখ পেলেও হাসি। রাগ করলেও হাসি ঢিলে থাকলেও হাসি। এজন্য অবশ্য আমাকে এরেষ্ট করতে এসে পুলিশ ভরকে গিয়েছিলো। তারা কোনো রাখঢাক না রেখেই বলে ফেললো তুমি যে পাগল এটা তোমার আম্মু জানে? আমিও সমান রসিকতায় বলেছিলাম। জ্বি না জনাব। দয়া করে জানিয়ে দিলে কৃতজ্ঞ থাকতাম।

রিমান্ডে আমার হাসি দেখে আঁৎকে উঠেছিলো উপস্থিত পুলিশ ভাইয়েরা সবাই। বলে এমন আসামী তো জীবনেও দেখিনাই যে কিনা রিমান্ডে এসেও হাসে আর স্বাভাবিক ভাবে কথা বলে!! আমি বলেছিলাম আমার চেহারাই এমন। আমি কি করতাম?

আমরাই এই বিশ্ব জগতের একমাত্র প্রাণী যারা পরিপূর্ণ ভাবে হাসতে পারি। আরো একশ্রেণী আছে যারা তাদের মুখাবয়ব পরিবর্তন করতে পারেনা, যদিও পারে হাসির মতো শব্দ উৎপাদন করতে। যাদের সাথে আমাদের আচরণের অনেক বেশি মিল অথচ তাদের চেয়ে আমরা নিজেদেরকে অনেক বেশী সম্মানিত মনে করি। এরা হচ্ছে হায়না।(চলবে)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নামাজি কাজ ফেলিয়া

আজ নামাজি কাজ ফেলিয়া ছুটিছে দেখ সিজদাতে, এমনি করে জগত ভরে হোক জমায়েত রোজ রাতে। খোদার ঘরে দরুদ পরে হাজার হাজার মুসলমান; দোর খোলা দিল পথ ভোলা দিল সবমিলে আজ উজাড় প্রাণ। হয় মুসাফির বছর ভুলে আজ কেবলি ঝুকলো শির। কেমন করে আঙ্গুল তোল? তুমিই কে বা মহান পীর? খোদার কাছে কাঁদল অবুঝ কাঁদল পাপী, কদরদান। কান্নাটা তো আসল ছিল, হোক না সে খুব অচলপ্রাণ! এইচ আল বান্না © 2017

৬ বছর পর

আগের মত আর লিখিনা বহুদিন। এই যায়গাটা আমার ডায়রির মত। মন যা চায় তা ই লিখতাম। একসময় ব্লগে অনেক কথা হত কত মানুষের সাথে। বাংলা ব্লগোস্ফেয়ারে এপক্ষ ওপক্ষ হয়ে তুলোধুনো করে সবাই সবার ফাঁসি চেয়ে এখন বন্ধ। আমরা যারা লেখালেখি করতাম তারাও তাদের নিজনিজ বিশ্বাস সম্মান ও চেতনা বজায় রাখতে সবাই নিজেদের মত মানুষ খুঁজে একজোট হয়ে হয়ত আজো আছে। কিন্তু আমি এবং আমার মত আরও কিছু মানুষ যারা মানবের ঐক্যে এবং সর্বচিন্তার মানুষের সহাবস্থানে বিশ্বাস করতাম তাদের আর বোধহয় কোথাও যায়গা হল না। আমরা এখানে ওখানে ঘুরেফিরে দিন কাটালাম। অনেকদিন পড় হটাত আজ এই ব্লগের ঠিকানা টা কি মনে হতে টাইপ করলাম। ঘুরে ঘুরে দেখলাম, বাহ! একসময় তো ভালই লিখেছি। যদিও শতশত লেখার মধ্যে হয়ত এই কটি লেখাকেই বাঁচাতে পেরেছি। তবে ফেইসবুকে আজো লিখি। কদিন হল ফেইসবুক কি একটা কারিগরি শুরু করেছে, অল্প লিখলে লেখা বড় করে দেখা যায়, সেই থেকে সবাই অল্প লিখতে চায়। আর যেহেতু অল্প লিখতে অভ্যাস তাই অল্প পরার একটা অভ্যাসও অলরেডি তৈরি হয়ে গেছে। খেয়াল করে দেখলাম কেউই কোনকিছু বিস্তারিত শুনতে চায় না, দেখতে চায় না, নিজের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান দ...

জানিনা হবে কিনা ফেরা

আজকে যেখানে আমাকে দেখছো দাঁড়িয়ে আকাশ অথবা নদী অথবা চিলের ডানার তলে কোমল পালক কিংবা নরম আদর মাখা ছোট্ট ঢেউয়ে দুলতে থাকা কচুরিপানার ফুলের মাঝে একটা নৌকো অথবা মমতা মাখানো মাটির কোলে... কাল আমি বহুদুর কোনো শৃংখলে ঘেরা হবেনা জানিনা হবে কিনা ফেরা ফেরা ফের ভুলে থাকা বহুদুর অনেক জীবন পেড়িয়ে এভাবেই এখানে তোমরা সকলে আবার ব্যস্ত কোলাহল বুকে জীবনের পথে পথ ভুলে মন হিসেবে ন্যস্ত। দাড়ি কমা হীন জীবন জগতে ভাগ শেষ কিবা রয়ে গেলো মোর? চেয়েছিতো ভোর খুলেনি যে দোর আর কিবা আমি করতে পারতাম? কিবা ই বা আমার করার ছিলো? দৈনিক আমি সৈনিক হয়ে হেড়েছি কেবলি জিতিনি কোথাও ওপারেই যদি জিত থাকে মোর তাই থাক তবে তাই থাক