সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

যা থামলেই শেষ (এ কারনে চলবে) ৪

অদ্ভুত... পুরো জগতটাই অদ্ভুত। আজ একজন ভালোবাসছে তো কালই মুখ গোমরা করে উল্টোদিকে ফিরিয়ে নিচ্ছে। বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলাচাল্যে নিত্য কম্পমান এই দোলনা থেকে শিশু পৃথিবী কবে যে বড় হবে সেটাই মনে হয় জগদ্বিখ্যাত মানুষদের ভাবনার একটা বিশাল অঞ্চল দখল করে বসে আছে।

ভাবতে ভাবতে সব শেষ হয়... পেঁকে যায় চুল... যৌবন রঙ ফুড়িয়ে বার্ধক্যের ফোকলা দাত জীবনের ক্ষুদ্রতা দেখে হাসে তার বুড়ো হাসি...। নিজের আর প্রিয়ার দুজনেরই বেড়ে যায় চামরার টান টান অহংকারের উপহাস। এক সময়ের উদ্ভ্রান্ত শক্তিধর প্রাণীটাই বয়সের হাতুরীর কাছে অসহায় ভাবে নিজেকে ছেড়ে দিয়ে ক্লান্ত হয়ে বসে পরে। নিষ্ঠুর করাত কেটে চলে জীবনের ঘুনে ধরা ফার্ণীচার।

ফেলে আসা দিন খুঁজে পেতে বৃদ্ধার মুখে চেয়ে থাকা... অথবা স্মৃতি উলটে কোথাও কখনো কোন মজার ঘটনা আজো মনে আছে... হাতড়ে হাতড়ে চেটেপুটে যাওয়া অতীতের গন্ধ। সারা জীবনের অবাধ্যতাগুলো ভুলে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা... আর স্রস্টার কোলে মাথা রেখে ঘুমানোর একটু নিশুথি নিঃশ্বাস।

এমন করেই হঠাৎ কবে একটা অপরিচিত জগতের ডাক এসে যায়। যারা বিশ্বাসী আছে তারা কিছুটা জানে কেমন হবে... আর যারা অবিশ্বাসী ... পুরোটাই একটা আতংক... যদি থেকে থাকে কিছু... তবে??

আসার সময়টাতে মগজের পুষ্টতা এতো কম ছিলো যে নিজের আবেগ অনুভুতি জানতে পারিনি... জানতে পারিনি... কেমন ছিলাম... ভালোবাসার চামড়ায় মোড়ানো ঐ অন্ধকার মাতৃ আঁধারে। জন্মানোর সময় অনুভুতির যেমন কোনো অস্তিত্ত্ব ছিলোনা মৃত্যুর সময় ও কি তেমনি? না!! মৃত্যের সময় তো আমার জ্ঞান কাজ করছে... আমার অভিজ্ঞতা অর্জনের সেই তন্ত্রীগুলো কাজ করছে... এখানে অবোধ, অবুঝ অথবা অজ্ঞান হওয়ার কি কোনো সুজোগ আছে?? সুজোগ আছে কি শিশু সময়ের সেই ভুলে যাওয়ার মস্তিস্ক পাওয়ার??

অজ্ঞান হলে কি আসলেই বোধ লোপ পায়?? সাধারনত দেখা যায় যদি কেউ জ্ঞান হাড়ায় তাহলে ততক্ষনের কোনো জ্ঞান তার কাছে থাকেনা... যতক্ষন সে জ্ঞানহীন অবস্থায় ছিলো। মৃত্যুকালীন অবস্থায় কি সেই জ্ঞানটা লোপ পায় না?? তাহলে কি মৃত্যুর স্বাদটা অনুভুতির বাইরে রয়ে যায় না?? এটা আমার মৃত্যু না আসা পর্যন্ত হয়তো আমি বুঝতে পারবো না। কেননা এমন কোনো ব্যাক্তি পাওয়া যায়নি... যাকে আমি মৃত্যুর স্বাদ কেমন জিজ্ঞেস করবো।

কেমন অদ্ভুত এক সমিকরনে এসে আপনাতেই হাজির আমরা সবাই... এবং এই অতিথির সংখ্যা নিজের অজান্তেই আপন সুখে আমরা বাড়িয়েই চলছি...( চলবে)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নামাজি কাজ ফেলিয়া

আজ নামাজি কাজ ফেলিয়া ছুটিছে দেখ সিজদাতে, এমনি করে জগত ভরে হোক জমায়েত রোজ রাতে। খোদার ঘরে দরুদ পরে হাজার হাজার মুসলমান; দোর খোলা দিল পথ ভোলা দিল সবমিলে আজ উজাড় প্রাণ। হয় মুসাফির বছর ভুলে আজ কেবলি ঝুকলো শির। কেমন করে আঙ্গুল তোল? তুমিই কে বা মহান পীর? খোদার কাছে কাঁদল অবুঝ কাঁদল পাপী, কদরদান। কান্নাটা তো আসল ছিল, হোক না সে খুব অচলপ্রাণ! এইচ আল বান্না © 2017

হাল ছেড়ে দিলে বন্ধু??

হাল ছেড়ে দিলে বন্ধু?? জীবনকি এভাবেই তোমাকে বহমান স্রোতধারায় ভাসিয়ে নিজ়ে যাবে?? আজ কোনো কঠিন শব্দ গুচ্ছ আমাকে আক্রমন করেনা... আমি নিজেই আপন ব্যাথায় আহত... বুকের কোথাও খেজুর কাঁটার খোঁচার মতো তীক্ষ্ণ ব্যাথা ধীরে প্রশস্ত অবয়ব নেয়... নিয়ে নেয় একাই পর্যদুস্ত... পরাজিত হয়ে গেলে তুমি?? তুমি না বিজয় শেখাও??? তুমি না আকাশকে পকেটে পুরে মেঘের হাওয়াই মিঠাই আপন মুখে আপন সুখে সুখ মেলাও!! দেখবে কোথায় আকাশ লুকায় কান্না ঝড়ায় পাহাড় গায়ে নয়তো কোথাও বিষন্নতাও ডুকরে কাঁদে মাঝির নায়ে একটু ধারে জীবন পারে কোন বেহালা বাদক বসে... ভেজায় তাহার আপন সুরে এক অবেলার দূঃখ রসে? উত্থান পতনের ক্রমাগত আঘাতে বেসামাল জীবন তোমার... আমিও ভাবি... হয়তো বেশী দিন নেই, আমার দুখের পাপড়ি ভাঙ্গার... অনেক সুখেই কাটছে আমার দিন প্রতিক্ষন সন্ধ্যা লগন... একজনাকেই সব শপেছি... প্রার্থনাতে তাই জপেছি... অনেক কষ্ট আর বেদনা নিয়ে তুমি পালিয়ে যাবে?? তিনিকি এর চেয়েও বেশী কষ্ট কাউকে দেননি?? পরীক্ষা করেননি?? হাল ছেড়ে দিলে বন্ধু??

জানিনা হবে কিনা ফেরা

আজকে যেখানে আমাকে দেখছো দাঁড়িয়ে আকাশ অথবা নদী অথবা চিলের ডানার তলে কোমল পালক কিংবা নরম আদর মাখা ছোট্ট ঢেউয়ে দুলতে থাকা কচুরিপানার ফুলের মাঝে একটা নৌকো অথবা মমতা মাখানো মাটির কোলে... কাল আমি বহুদুর কোনো শৃংখলে ঘেরা হবেনা জানিনা হবে কিনা ফেরা ফেরা ফের ভুলে থাকা বহুদুর অনেক জীবন পেড়িয়ে এভাবেই এখানে তোমরা সকলে আবার ব্যস্ত কোলাহল বুকে জীবনের পথে পথ ভুলে মন হিসেবে ন্যস্ত। দাড়ি কমা হীন জীবন জগতে ভাগ শেষ কিবা রয়ে গেলো মোর? চেয়েছিতো ভোর খুলেনি যে দোর আর কিবা আমি করতে পারতাম? কিবা ই বা আমার করার ছিলো? দৈনিক আমি সৈনিক হয়ে হেড়েছি কেবলি জিতিনি কোথাও ওপারেই যদি জিত থাকে মোর তাই থাক তবে তাই থাক