সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

হলুদের গন্ধ ছিলো নাকে লাগার মত

মাথাটা ভিষণ জ্যাম হয়ে আছে বুঝেছিস কিছু? নাকি হাবাগোবার মতো ফ্যাল করে এখনো সময়ের ডানা ছিঁড়ে কয়েকটা পালক দে- তোর গলায় পড়িয়ে দি। পাখিগুলো এখানে এখনো উঁটের কূঁজের মতো ডানা গুটিয়ে গুম মেরে বসে বসে ধান খুটে খাওয়া শালিকদের সাথে গল্প রত। কত দিন পর আজ এই বুকে মাথা রেখে কথা বলছি-- জানিস?? সেই যে বহুদিন আগের রোদ জ্বলা এক দুপুর ক্লান্তি নিয়ে মাটির চুলোয় ছোট্ট পাতিলে সংসার সংসার খেলেছিলাম। ওখানে কেউ বউ ছিলোনা... ছিলোনা শাশুড়ী কিংবা শশুড় তবু একদল রাঁধতো আরেকদল বাগানে হেঁটে হেঁটে পাতা ছিঁড়ে বাজার করার মিছে অভিনয় করতাম। মায়ের চালের ড্রাম থেকে চাল চুরি করে, ডাল চুরি করে সাথে পেঁয়াজ, তেল, হলুদ মরিচ। রোদের সাথে এক বসাতেই রান্না খারাপ হতোনা। তবে হলুদের গন্ধ ছিলো নাকে লাগার মত। কি খেতাম জানিনা-- জানিনা-- আজো কি খাই-- কি দেখি-- চোখের পর্দায় ধিরে ধুসর আবরণ পড়ে যাচ্ছে তোরা কেউ টের পাস?? হয়তো কাল হয়েছে অনেক- তোদের কোলে বাচ্চা এসেছে- আচল ধরে টানাটানি করার মতো- বুড়িয়ে গেছিস বোধহয়- অনেকটা দাদীর মতো- এইসব ছেড়ে কত দূর পথে আজো হেটে যাওয়ারাই কেবল সঙ্গী। ঝিঝিদের ডাকে একটানা ছায়াছবি ভাসে- চোখ খুলেও বন্ধ করে...

জীবিতেরা সব চলে এসেছিলো মৃত্যু থেকে পালিয়ে, কিন্তু মৃতেরা?

আমার রুমে ২টা তেলাপোকাকে আমি প্রায় সময়ই একই সাথে ঘুরাঘুরি করতে দেখি। একটা যদি বিছানায় তো অন্যটা বালিশে, একটা যদি বইয়ে আরেকটা খাতায়, একটা ফ্লোরে আরেকটা দেয়ালে, একটা এলসিডিতে আর অন্যটা তখন মাউসের আশে পাশে ঘুরাঘুরি করছে-মনে হয় সঙ্গী আর সঙ্গিনী। আমরা বর্তমান মানুষরা এর বেশী কিছু ভাবতে শিখিনি। ওরা আমাকে বেশ ভালোবাসে। রুমের দরজা খুলে দিলে বেরিয়ে যায় আবার ফিরে আসে- ফিরে আসে। সন্ধ্যায় বসে লিখছি এমন সময় আমার হাতের আঙ্গুলে একটা তার সরু শুর দিয়ে শুরশুরি দিলো। আমি তাকালেই ঘুরে চলে যায়। ভোর বেলায় ঘুম থেকে উঠে চোখ ঘসে ঘসে ওয়াশরুমের পথে যেতে যেতে হঠাৎ আবিষ্কার করি আমি ঠিক উলটো করিডোরে হাটি, ঘুরে ফিরি আবার ওপথে। হাতে পায় চোখে অজুর কোমল স্পর্শে আমি যেনো সকালের আকাশ চুইয়ে পড়া সুবহের শিশির। পায় জ্বলা অনুভব করে দেখি ওরা আমার পায়ের আঙ্গুলের ডগার নরম চামড়া খেয়ে ফেলেছে। আমি বেশ উপভোগ করি। ইয়াল্লাহ!! বা হাতের বুড়ো আঙ্গুলের চামাড়াও লাল হয়ে আছে। ওদেরকে বিদেয় করে দেবো ভাবি। আবার ভাবি ওরা আমার কতটুকুই বা ক্ষতী করলো? আমরা মানব জাতি এর চেয়ে কত বেশী ক্ষতিকরদের সাথে বন্ধুত্ত্ব করি- আবার উপকারীদের সাথে কর...

আমার স্বপ্ন গুলো কই?

স্বপ্ন আঁকার সংকল্পে আজকে বেকার কালকে বেকার পরশুতেও হয়নি আকার যায় ফুরিয়ে জীবন চাকার তেল আর দেখবো কত খেল? ফেরিওলার স্বপ্ন কিনে উড়াই কেবল রাত্রী দিনে। জানি না আজ স্বপ্ন বিনে কেমনে বেঁচে রই- জানিশ কি কেউ তোরা? আমার স্বপ্ন গুলো কই?

পথ চলার বেদনা

ধিরে শরীরটা বাতিল হয়ে যাওয়া টেলিভিশনের মত খুলে খুলে যাচ্ছে মনের ডানায় আর ঝাপটানোর জোর খুঁজে পাইনা, কেমন বিহন্ন রোদন। বসন্তের ছোবলে বিক্ষত ভ্রমরের ব্যাকুল বিষন্নতা বুকে বাতাসের অহংকার মরা ঘাসে ঘাসপোঁকাদের করুন বিলাপে ব্যথিত পৃথিবীর শেষ বাঁচার আকুতি এই সব বুকে নিয়ে পথ চলার বেদনা তুমি কি বুঝবে কোনোদিন? না বুঝলে কি করে অদৃশ্য বেদনার পাহারের দেখা মিলবে বস্তুবাদী নয়নে? একাই একটি ঝিঝি পোঁকা ডেকে যায় পাহাড়ী পথের ধারে সরু রাস্তার ধারে- পৃথিবী ঘুরছেই অবিরাম আপন কক্ষপথে আপন গতিতে আপন সময়ে তবু আমাদের দিনগুলো আর ফিরবেনা যতোই গভীর হোক কান্না আর ফেরানো যাবেনা সময়ের জল উল্টো পথে পেছনের ক্ষয়ে যাওয়া অতীতে।

রাত্রী, বৃষ্টি ও আমি

জানালার থাই পেরিয়ে আমার কানে ওর আহবান আসতে বেশ সময় লেগে গেলো। কিন্তু যখনই টের পেলাম ও এসেছে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনি। সোজা ছাদে গিয়ে ঠান্ডা ভেজা দোলনায় বসে পড়লাম। আকাশ থেকে নেমে ব্যাকুল করা স্পর্শে আমাকে শিহরিত করে দিলো। ধিরে ভিজতে লাগলাম। ক্যামন যেনো একটা ভালোলাগা। আসলে বলার মতো উপযুক্ত কোনো শব্দ আমার ভান্ডারে উপস্থিত নেই মনে হয়। কি আর করার তবুও লিখতে যখন বসেছি উপলব্ধির কাছাকাছি তো অন্তত নিয়ে যেতে হবে। আকাশের আদর খুব ধিরে এসে পড়ছে মাথায়, গায়, হাতে, পায়। রাতের রঙ মাখিয়ে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো। হঠাৎ প্রচন্ড কান্না পেলো। কেনো জানিনা। অনেকেই বলে কাঁদা নাকি মেয়েদের স্বভাব। মানুষ কি আসলে ছেলে? নাকি মেয়ে? ভেতরে যে জিনিষটা আছে ওটাকে আমার মনে হয় কেবলি মানুষ। নারী নয় পুরুষও নয়। কেনোনা রুহ বা আত্মা পুরুষ বা নারী হওয়ার কোনো যোগ্যতা রাখেনা। কেবল মাত্র শারীরিক প্রয়োজনে এটা নারী বা পুরুষ। সাইকোলোজি ফিলোসোফি থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার কারনও হচ্ছে কেবলমাত্র আত্মার কোনো দৃশ্যমান অস্তত্ত্ব না থাকা। যার কোনো দৃশ্যমান অস্তিত্ত্ব নেই সে কি করে পুরুষ অথবা নারী হয়? এজন্য কারো আচরনকে কোনো নির্ধারিত কিছুর ...

এখন আমি লঞ্চের বারান্দায়- নদীর ভেজা বাতাস আমার সঙ্গী

লঞ্চের এই লৌহ প্রান্তরে প্রাণের কোলাহলে মুখরিত একটি ছোট্ট কেবিনে আমি আর আমরা আমাদের তৈজস নিয়ে আস্তানা সাজাই একটি রাতের জন্য। ছোট দুটি খাট সাদা ধবধবে চাদরে জড়ানো। একটা কাঠের টেবিল- দুটি ব্যাবহৃত ফ্রেশ পানির বোতলে রাখা পান করার পানি। দুটো গ্লাস। আমরা চাইলেও হয়তো অনেক কিছু জানতে পারিনা। মানুষ অনেক সিমাবদ্ধ শক্তি নিয়েই নিজেকে অনেক শক্তিধর একটি প্রাণী মনে করে। কিন্তু সে নিজেও জানে সে আসলে কোনো শক্তি ই রাখেনা। কেবল বৃথা আস্ফালনে কাঁপায় পৃথিবীর সকল প্রান্তর। একই কেবিনে তিনটা লেপটপ থাকায় দরজায় আর জানালায় উৎসুক দর্শকের কোনোই অভাব হলোনা। জানালায় নারী শিশু মুখ উঁকি দিচ্ছে বার বার। দরজায় মধ্য বয়ষ্ক ভদরলোক ও লুঙ্গি শক্ত করে বাধতে গিয়ে হালকা চোখে শরু পাতায় দেখে উঁকি দিয়ে-- কি করছে? কি দেখছে ছেলেগুলো? আমাদের অহংকার আমাদেরকে কতটা উচ্চতায় নিতে পারে জানিনা তবে নিচের দিকে যে ভয়াবহ গতীতে আমরা পতিত হচ্ছি তার স্পিড জানতে আজ আর কোনো মিটারের প্রয়োজন হয়না। প্রবাহমান খরস্রোতা মেঘনার মতো আমরাও ঢেলে দেই নিজেদের সকল বুদ্ধি বিবেক। বারান্দায় অনেক বাতাস থাকলেও শহর মুখো মানুষগুলোর প্রচন্ড আনাগোনায় বসার কো...

বৃষ্টি তুমি বড্ড অদ্ভুত সুন্দর

বৃষ্টি হলেই কেমন যেনো অদ্ভুত একটা অনুভুতি টের পাই বুকের ভেতর। আচ্ছা মনটা কি বুকে থাকে? নাকি মাথায়?? থাক এটা নিয়ে আর একদিন ভাবা যাবে। ও -- আমি কিন্তু কখনোই ছাতা মাথায় দেইনা। লেপটপটাকে কভার করার জন্য একটা ওয়াটার প্রুফ ব্যগে পুরে কাঁধে করে নেমে যাই। ভিজতে ভিজতে শহরের সেই সব মানুষদের মাঝে নিজেকে আবিষ্কার করি যারা মনচাইলেও বৃষ্টি থেকে নিজেদেরকে আড়াল করতে পারেনা। ওরা বসে থাকে অভার ব্রিজের নিচে। কিন্তু ওখানেও বৃষ্ট তার গড়িয়ে পড়া পানিতে ওদেরকে ভিজিয়ে দেয়। যাদের চোখের জল বৃষ্টির পানিতে মিশে এই মাটিকে আর উর্বর হতে সাহায্য করে। যখন চুলগুলো মাথায় লেপ্টে যায়- চুলের আগায় টুপ টুপ করে পানির ফোঁটাগুলো পড়তে থাকে- আর কানে ইয়ার ফোনে বাঁজতে থাকে শ্রীকান্তের -আমার সাড়াটা দিন মেঘলা আকাশ বৃষ্টি- কিংবা- তাওসিফের- বৃষ্টি ঝরে যায় দুচোখে গোপনে- শুনতে শুনতে অনেক দূরে কোথায় হারিয়ে যাই। এটা কিন্তু মোটেও বাড়িয়ে বলছিনা। এমনিতে আমি তেমন একটা বাহিরে যাইনা। কিন্তু বৃষ্টি হলে আমি সারাক্ষণ পথে পথে ঘুড়ে বেড়াই। আমার তেমন একটা জ্বরটর হয়না আলহামদুলিল্লাহ। সেদিন একজন বুড়ো ভিক্ষুককে দেখলাম মসজিদের সামনে বসে তার দূর্বল...