সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হলুদের গন্ধ ছিলো নাকে লাগার মত

মাথাটা ভিষণ জ্যাম হয়ে আছে
বুঝেছিস কিছু? নাকি হাবাগোবার মতো ফ্যাল করে এখনো
সময়ের ডানা ছিঁড়ে কয়েকটা পালক দে- তোর গলায় পড়িয়ে দি।

পাখিগুলো এখানে এখনো উঁটের কূঁজের মতো ডানা গুটিয়ে গুম মেরে

বসে বসে ধান খুটে খাওয়া শালিকদের সাথে গল্প রত।
কত দিন পর আজ এই বুকে মাথা রেখে কথা বলছি--
জানিস??

সেই যে বহুদিন আগের রোদ জ্বলা এক দুপুর ক্লান্তি নিয়ে

মাটির চুলোয় ছোট্ট পাতিলে সংসার সংসার খেলেছিলাম।
ওখানে কেউ বউ ছিলোনা... ছিলোনা শাশুড়ী কিংবা শশুড়
তবু একদল রাঁধতো আরেকদল বাগানে হেঁটে হেঁটে পাতা ছিঁড়ে
বাজার করার মিছে অভিনয় করতাম।

মায়ের চালের ড্রাম থেকে চাল চুরি করে, ডাল চুরি করে

সাথে পেঁয়াজ, তেল, হলুদ মরিচ।
রোদের সাথে এক বসাতেই রান্না খারাপ হতোনা।
তবে হলুদের গন্ধ ছিলো নাকে লাগার মত।

কি খেতাম জানিনা-- জানিনা-- আজো কি খাই--

কি দেখি-- চোখের পর্দায় ধিরে ধুসর আবরণ পড়ে যাচ্ছে
তোরা কেউ টের পাস?? হয়তো কাল হয়েছে অনেক-
তোদের কোলে বাচ্চা এসেছে- আচল ধরে টানাটানি করার মতো-

বুড়িয়ে গেছিস বোধহয়-

অনেকটা দাদীর মতো-

এইসব ছেড়ে কত দূর পথে আজো হেটে যাওয়ারাই কেবল সঙ্গী।

ঝিঝিদের ডাকে একটানা ছায়াছবি ভাসে- চোখ খুলেও বন্ধ করে
একি!! সব একি লাগে-
আমাদের মা, কিংবা বাবা, তাদের শিশুকাল--যৌবন- বার্ধক্য
ঘুরে ফিরে সেই একই কক্ষপথে জীবনের এই সময় নামক পাখিটা।
আজো হলুদের গন্ধ নাকে লাগে। মরার সময়েও লাগবে বোধহয়।

সকাল ১০,৫৫
০৩/১১/২০১০

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নামাজি কাজ ফেলিয়া

আজ নামাজি কাজ ফেলিয়া ছুটিছে দেখ সিজদাতে, এমনি করে জগত ভরে হোক জমায়েত রোজ রাতে। খোদার ঘরে দরুদ পরে হাজার হাজার মুসলমান; দোর খোলা দিল পথ ভোলা দিল সবমিলে আজ উজাড় প্রাণ। হয় মুসাফির বছর ভুলে আজ কেবলি ঝুকলো শির। কেমন করে আঙ্গুল তোল? তুমিই কে বা মহান পীর? খোদার কাছে কাঁদল অবুঝ কাঁদল পাপী, কদরদান। কান্নাটা তো আসল ছিল, হোক না সে খুব অচলপ্রাণ! এইচ আল বান্না © 2017

হাল ছেড়ে দিলে বন্ধু??

হাল ছেড়ে দিলে বন্ধু?? জীবনকি এভাবেই তোমাকে বহমান স্রোতধারায় ভাসিয়ে নিজ়ে যাবে?? আজ কোনো কঠিন শব্দ গুচ্ছ আমাকে আক্রমন করেনা... আমি নিজেই আপন ব্যাথায় আহত... বুকের কোথাও খেজুর কাঁটার খোঁচার মতো তীক্ষ্ণ ব্যাথা ধীরে প্রশস্ত অবয়ব নেয়... নিয়ে নেয় একাই পর্যদুস্ত... পরাজিত হয়ে গেলে তুমি?? তুমি না বিজয় শেখাও??? তুমি না আকাশকে পকেটে পুরে মেঘের হাওয়াই মিঠাই আপন মুখে আপন সুখে সুখ মেলাও!! দেখবে কোথায় আকাশ লুকায় কান্না ঝড়ায় পাহাড় গায়ে নয়তো কোথাও বিষন্নতাও ডুকরে কাঁদে মাঝির নায়ে একটু ধারে জীবন পারে কোন বেহালা বাদক বসে... ভেজায় তাহার আপন সুরে এক অবেলার দূঃখ রসে? উত্থান পতনের ক্রমাগত আঘাতে বেসামাল জীবন তোমার... আমিও ভাবি... হয়তো বেশী দিন নেই, আমার দুখের পাপড়ি ভাঙ্গার... অনেক সুখেই কাটছে আমার দিন প্রতিক্ষন সন্ধ্যা লগন... একজনাকেই সব শপেছি... প্রার্থনাতে তাই জপেছি... অনেক কষ্ট আর বেদনা নিয়ে তুমি পালিয়ে যাবে?? তিনিকি এর চেয়েও বেশী কষ্ট কাউকে দেননি?? পরীক্ষা করেননি?? হাল ছেড়ে দিলে বন্ধু??

মে দিবস এবং আমাদের বোধোদয়ের প্রত্যাশা

যখন পথের পাশে শিশু সন্তান শুয়ে পা নেড়ে নেড়ে একলা নিজের সাথে নিজেই খেলা করে ধুলো আর বালিতে গড়াগড়ি দিয়ে, তখন মায়ের সন্ধান করতে গিয়ে চোখ চলে যায় ইটের ঢিবির উপর হাতের আঙ্গুলগুলোতে চাকার ভেতরের টিউবের রাবারের আবরণ লাগিয়ে কালো পাথরের উপর আস্ত ইটগুলোকে খন্ডিত করতে থাকা কংকালসার মহিলার দিকে। এই মা ও শিশু যেন চিৎকার করে সবাইকে মনে করিয়ে দেয় মে দিবসের আবেদন আর আন্দোলনের কথা। ১ মে। অবিরাম অমানবিক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার শ্রম থেকে কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনার আকাংখা তখন প্রতিটা শ্রমিকের দাবী। এই আকাংখাই একদল শ্রমিককে ১৮৮৬ সালে শিকাগোয় নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলিত করে। ৮ ঘণ্টাই হোক কাজের সময়। এই ছিলো তাদের চাওয়া। তারা সময় বেঁধে দিয়েছিলো ১ মে এর মধ্যে তাদের দাবি মেনে নিতে হবে। কিন্তু কারখানার মালিকরা তা মেনে নেয়নি। ৪ মে ১৮৮৬ সালে সন্ধ্যাবেলা হালকা বৃষ্টির মধ্যে শিকাগোর হে-মার্কেট নামক এক বাণিজ্যিক এলাকায় শ্রমিকগণ মিছিলের উদ্দেশ্যে জড়ো হন। তারা ১৮৭২ সালে কানাডায় অনুষ্ঠিত এক বিশাল শ্রমিক শোভাযাত্রার সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে এটি করেছিলেন। “অগাস্ট স্পীজ” নামে এক নেতা জড়ো হওয়া শ্রমিকদের উদ...